জাপানের ইয়োকোহামায় অবস্থিত সদর দপ্তর ভবন বিক্রির কথা বিবেচনা করছে নিশান মোটর কোম্পানি। কারখানা বন্ধ ও অন্যান্য পুনর্গঠনমূলক কার্যক্রমের খরচ মেটাতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে তথ্য দিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্র। খবর জাপান টুডে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জাপানি কোম্পানিটির বৈঠক অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে পুনর্গঠন খাতে অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি ইয়েন বা ৪২ কোটি ডলার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে তারা।
নিশান জানিয়েছে, মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৬৭ হাজার ৯০ কোটি ইয়েন নিট লোকসান দিয়েছে। এর মধ্যে মূল্যহ্রাসজনিত ৪৬ হাজার কোটি ইয়েন ক্ষতি এবং সংস্কার পরিকল্পনার আওতায় ৬০০ কোটি ইয়েন পুনর্গঠন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোনো আয়ের পূর্বাভাস দেয়নি। কারণ হিসেবে নিশানের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জেরেমি প্যাপিন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পুনর্গঠন ব্যয় ও মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনো পুরোপুরি হিসাব করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সদর দপ্তর বিক্রি করলেও ভবিষ্যতে সে অফিস ভাড়া নিতে পারে নিশান। তবে কিছু নির্বাহীর বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত ভবন বিক্রির সিদ্ধান্ত ধরে কোম্পানিটি এগোবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জাপানের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারক নিশান অর্থ সংকটে এরই মধ্যে ১৭টি অ্যাসেম্বলি কারখানার মধ্যে সাতটি বন্ধ এবং বিশ্বজুড়ে ২০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি বিক্রিতে ধস এবং দফায় দফায় মার্কিন শুল্ক আরোপের চাপে রয়েছে নিশান। এখন বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম সংকুচিত করে আগামী অর্থবছরে লাভজনক অবস্থানে ফিরে যেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কোম্পানিটি।
২০২৪ অর্থবছরে ৩৩ লাখ গাড়ি বিক্রি করে নিশান, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। সম্প্রতি জানা যায়, জাপানের ওপ্পামা প্লান্ট ও নিশান শতাই পরিচালিত শোনান প্লান্ট বন্ধের কথা বিবেচনা করছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ওপ্পাম প্লান্টে উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬১ সালে। নিশান শতাইতে কোম্পানির ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে। কারখানা দুটি বন্ধ করলে জাপানে নিশানের আর তিনটি অ্যাসেম্বলি প্লান্ট অবশিষ্ট থাকবে।
আরো বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও আর্জেন্টিনার প্লান্টে উৎপাদন বন্ধের কথা ভাবছে নিশান। মেক্সিকোয় কারখানা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।